সরকারি প্রকল্পে গাছ কাটতেও অনুমতি লাগবে: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়


এখন থেকে কোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য শহর বা রাস্তার পাশের গাছ কাটার প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট কমিটির অনুমতি নিতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ সচিব, পরিবেশবিদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি থেকে এই অনুমতি নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা শহরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০২৪ সালের ৫ মে রিট আবেদন করে। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ৭ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

আরও পড়ুন : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ অনুমোদন, ৫–৭ দিনের মধ্যে গেজেট

রুলে জানতে চাওয়া হয়, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ঢাকা শহর এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটা কেন পরিবেশ ও মানবাধিকার পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ ব্যতীত সারা দেশে গাছ কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।

এই রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত বছর ২৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে ঢাকা শহরসহ অন্যান্য জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে সাত দিনের মধ্যে কমিটি গঠন করতে হবে।

তবে রায়ে উল্লেখ করা হয়, সরকারি প্রকল্পের জন্য এবং গ্রামাঞ্চলে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমতির প্রয়োজন হবে না।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, দেশে দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে। এ অবস্থায় গাছ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। নির্বিচারে গাছ কাটা হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে, যা মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশে যে পরিমাণ গাছ বা বনায়ন থাকা প্রয়োজন, বাস্তবে তা নেই। ফলে গাছ সংরক্ষণ এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সরকারি প্রকল্পের জন্য গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে না, রায়ের এই অংশ সংশোধন ও পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য গত বছরের ১৭ জুলাই আবেদন করা হয়েছিল।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *