১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা, ইবিএল চেয়ারম্যানসহ আসামি ৪৬


চট্টগ্রামে গ্রাহকের ১১ কোটি আত্মসাতের অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ ব্যাংকটির ৪৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ারের আদালতে মামলাটি করেন মুর্তুজা আলী নামে এক ব্যবসায়ী।

মামলার আরজিতে ইস্টার্ন ব্যাংকের পিএলসিকে প্রথম ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলি চৌধুরীকে দ্বিতীয় আসামি করেছেন ব্যবসায়ী মুর্তুজা আলী।

মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন- ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার, পরিচালক এম গাজিউল হক, সেলিনা আলি, আনিস আহমেদ, মুফাক্কারুল ইসলাম খসরু, গাজী মো. সাখাওয়াত হোসাইন, কে জে এস বানু, জারা নামরীন, ড. তাওফিক আহমেদ চৌধুরী, রুসলান নাসির, কে এম তানজিব উল হক, খন্দকার আতিক-ই রাব্বানী, মাহরীন নাসির, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী জামান, রিয়াদ মাহমুদ চৌধুরী, এম খোরশেদ আনোয়ার, মাহমুদুন নবী চৌধুরী, এম খোরশেদ আলম, মহিউদ্দিন আহমদ, ইউনিট হেড মো. ওবাইদুল ইসলাম, মাহদিয়ার রহমান, মো. মাইনুল হাসান ফয়সাল, ট্রানজেকশন ব্যাংকিং হেড মো. জাবেদুল আলম, হেড অব কর্পোরেট বিজনেস সঞ্জয় দাশ।

এছাড়া আরও অভিযুক্ত করা হয়েছে ব্যাংকটির হেড অব প্ল্যানিং আশরাফ উজ জামান, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মাসুদুল হক সরদার, হেড অব ট্রেড অপারেশন মো. মোকাদ্দাস, হেড অব ব্যাকিং মো. জাহিদ হোসাইন, হেড অব বিজনেস সৈয়দ জুলকার নাইন, হেড অব ডিজিটাল ফিন্যান্স আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী, চিফ টেকনোলজি অফিসার জাহিদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. আবদুস সালাম, হেড অব কমিউনিকেশন জিয়াউল করিম, হিউম্যান রিসোর্সের প্রধান মনিরুল ইসলাম, হেড অব বিজনেস ইনফরমেশন মাসকুর রেজা, হেড অব ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মোস্তফা সরওয়ার, কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, চান্দগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক পারভেজ আলম, নিজাম উদ্দিন, ওআর নিজাম রোড শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম মাইনুদ্দিন, কর্পোরেট এরিয়া হেড ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী এম এ কিউ সরওয়ার এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অডিট প্রধান মো. রেজাউল ইসলামকে।

আরও পড়ুনরমজানে হাইকোর্টের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

মামলায় আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্ট্রিজের পরিচালক। ২০১৭ সালে তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকের ও আর নিজাম শাখায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ টাকা সঞ্চয়ী হিসেবে জমা করেন।

কিন্তু ব্যাংকের নিয়মনুযায়ী সঞ্চয়ী হিসাবের ওপর ৭ শতাংশ মুনাফা পাওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংক সেটা দেয়নি। পরে ব্যাংকে থাকা অর্থের পরিমাণ মুনাফাসহ ছয় কোটি ১০ লাখ টাকা দাঁড়ালে মুর্তুজা আলী সেটা ইস্টার্ন ব্যাংকের চান্দগাঁও শাখায় স্থানান্তর করেন।

২০১৭ ও ২০১৮ সালে মর্তুজা আলী ইস্টার্ন ব্যাংকের চান্দগাঁও শাখায় পাঁচ কোটি ৮০ লাখ টাকার ছয়টি এফডিআর (স্থায়ী আমানত) খোলেন এবং তার বিপরীতে একটি ওএসডি (সিকিউরড ওভারড্রাফট) ঋণের জন্য আবেদন করেন।

২০১৯ সালে বিদেশে থাকার সময় তিনি ব্যাংকটির চান্দগাঁও শাখায় তার নামে দুটি জাল সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট ও চারটি জাল ঋণ অ্যাকাউন্টের বিষয়ে জানতে পারেন। তার জাল স্বাক্ষর ও ভুল তথ্যে দিয়ে ওই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে নয় কোটি ৭৭ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৭ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ কোটি ৪৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মুর্তুজা আলী তার সকল পাওনা পরিশোধ করতে ইস্টার্ন ব্যাংক বরাবর লিখিত আইনি নোটিশ পাঠালেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মর্তুজা আলী ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে সব মিলিয়ে ১১ কোটি টাকা পাবেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছেন।

বাদীর আইনজীবী হেলাল বিন মঞ্জুর তামিম জানান, মুর্তুজা আলীর বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা করেন। এছাড়া সঞ্চয়ী হিসাবে ৫০ লাখ টাকা জমা ছিল। বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি জানতে তার স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া তথ্য দিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা তার স্থায়ী আমানতের ওপর ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। স্থায়ী আমানতের মুনাফাসহ তিনি ব্যাংক থেকে ১১ কোটি টাকা পাবেন, যেটা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আত্মসাত করেছে।

তিনি আরও জানান, ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।



Source link

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *